বিশ্ববাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের গড় মূল্যসূচক ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।
মূলত মাখনের (বাটার) দাম অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। খবর আইরিশ ফারমারস জার্নাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের নিলামে সবচেয়ে বেশি কমেছে মাখন ও চর্বিজাতীয় দুগ্ধজাত পণ্যের দাম। একদিনেই মাখনের দাম প্রায় ৮ দশমিক ১ শতাংশ কমে গেছে। পাশাপাশি অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাট (এএমএফ) বা বিশুদ্ধ দুগ্ধজাত চর্বির দাম কমেছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। গুঁড়া দুধের বাজার তুলনামূলক কিছুটা স্থিতিশীলতা থাকলেও দাম কমেছে। নিলামে ননিছাড়া গুঁড়া দুধের (এসএমপি) দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ননিযুক্ত গুঁড়া দুধের (ডব্লিউএমপি) দাম দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। বিশ্ববাজারের এ নেতিবাচক প্রভাব এখন ইউরোপের স্থানীয় বাজারগুলোয়ও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইউরোপের বাজারে প্রতি টন মাখনের দাম প্রায় ১০০ ইউরো কমে ৪ হাজার ইউরোর নিচে নেমে এসেছে। একইভাবে ননিযুক্ত গুঁড়া দুধের দাম প্রতি টনে ২৫ ইউরো এবং ননিমুক্ত গুঁড়া দুধের দাম ৭৫ ইউরো পর্যন্ত কমেছে। মূলত ইউরোপের গুদামগুলোয় বর্তমানে প্রচুর পরিমাণ মাখন মজুদ রয়েছে। এ বাড়তি মজুদের কারণেই বাজারে সরবরাহ বেড়ে দাম কমছে। তবে বিশ্ববাজারের তুলনায় ইউরোপে দাম আরো কম থাকায় ইউরোপীয় উৎপাদকরা বিশ্ববাজারে এখন অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে।
জিডিটি নিলামের তথ্য অনুযায়ী, দরপতনের পরও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন মাখনের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৬৩ ইউরো। অন্যদিকে ইউরোপের বাজারে এ একই পরিমাণ মাখন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩ হাজার ৯০০ ইউরোয়। আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে এ মূল্য আরো কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মজুদ করা মাখন কত দিনের পুরনো তার ওপর ভিত্তি করে আয়ারল্যান্ডের স্থানীয় দাম নির্ধারণ হবে। যদিও এ দরপতন খামারিদের মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তবে কম দামের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন ইউরোপীয় পণ্যের প্রতি বেশি আগ্রহী হতে পারেন বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
দুগ্ধপণ্যের এ দরপতনের পেছনে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিরও বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির গতিপথ কোন দিকে যায়, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, তবে বিশ্ববাজারে পণ্যের চাহিদা আবার বাড়তে পারে। চাহিদা বাড়লে দুগ্ধপণ্যের দাম পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
আপাতত দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার বেশ অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ইউরোপে পণ্যের বিশাল মজুদ এবং অন্যদিকে বিশ্ববাজারে দামের এ ৩ দশমিক ৪ শতাংশ পতন ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীরা এখন পরবর্তী নিলামের দিকে তাকিয়ে আছেন। সামনের দিনগুলোয় চাহিদা না বাড়লে এ দরপতন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটি কিছুটা স্বস্তির খবর হলেও দুগ্ধ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও খামারিদের জন্য এ সময় বেশ সংকটের।
এ জাতীয় আরো খবর..